সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং সৌদি আরবের কাছে অস্ত্র বিক্রি নিষিদ্ধ করেছে ইতালি সরকার। শুক্রবার (২৯ জানুয়ারি) ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী লুইজি ডি মাইও স্থায়ীভাবে অস্ত্র বিক্রি নিষিদ্ধ করার কথা ঘোষণা দেন। এ সময় তিনি মানবাধিকার রক্ষা এবং ইয়েমেনে রক্তপাত বন্ধের বিষয়ে রোমের প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করেন।
তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি আরও জানায়, ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী লুইজি ডি মাইও বলেছেন- এটি এমন একটি পদক্ষেপ যাকে আমরা খুবই জরুরি বলে মনে করেছি এবং আমাদের দেশের পক্ষ থেকে শান্তি প্রতিষ্ঠার বার্তা দিয়েছি। মানবাধিকার রক্ষার ব্যাপারে ইতালি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
ইতালির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মানলিও ডি স্টেফানো দেশটির একটি পত্রিকাকে জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্ত গত সপ্তাহে নেওয়া হয়েছে এবং এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী কন্তের পক্ষ থেকে সবুজ সংকেত ছিল।
ইতালির নেটওয়ার্ক ফর পিস অ্যান্ড ডিজআর্মামেন্টের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সরকারের এই সিদ্ধান্তের কারণে সৌদি আরবের কাছে ১২ হাজার ৭০০ ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রি আটকে গেলো। ২০১৬ সালে সৌদি আরবের সঙ্গে ৪০ কোটি ইউরোর ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রির যুক্তি ছিল যার আওতায় রিয়াদকে ২০ হাজার ক্ষেপণাস্ত্র দেওয়ার কথা ছিল।
ক্যাম্পেইন অ্যাগেইনেস্ট দ্যা আর্মস ট্রেড-এর নেতা অ্যান্ড্রু স্মিথ বলেন, ইতালির এই পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দৃষ্টান্ত। এখন ব্রিটেনসহ ইউরোপের অন্য দেশগুলোর পক্ষ থেকে একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
এর আগে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে সমরাস্ত্র বিক্রি স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যেসব সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির আগাম অনুমোদন দিয়েছিলেন সেগুলোও পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জো বাইডেনের নেতৃত্বাধীন নতুন প্রশাসন। দায়িত্ব গ্রহণের পর ২৭ জানুয়ারি নিজের প্রথম সংবাদ সম্মেলনেই বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি জে ব্লিংকেন।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই পর্যালোচনার উদ্দেশ্য হচ্ছে এটা নিশ্চিত হওয়া যে, আমাদের কৌশলগত লক্ষ্য ও পররাষ্ট্রনীতির বিষয়টি এখানে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে কিনা। এ বিষয়টিই এখন আমরা যাচাই বাছাই করছি।
প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল প্রথম সৌদি-আমিরাতের কাছে মার্কিন সমরাস্ত্র বিক্রি স্থগিতের খবর দেয়। ২৭ জানুয়ারি প্রকাশিত ওই খবরে বলা হয়, বাইডেন প্রশাসন মধ্যপ্রাচ্যের এই দুই দেশের কাছে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের সমরাস্ত্র বিক্রির উদ্যোগ সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। এর মধ্যে সৌদি আরবের কাছে প্রিসিশন গাইডেড মিউনিশন্স থেকে শুরু করে আমিরাতের কাছে অত্যাধুনিক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির মতো সিদ্ধান্তগুলোও রয়েছে।